স্পটলাইটে স্কুল-অভিভাবক সম্পর্ক - Womenwords

Womenwords

Voice Of Women

Home Top Ad

Post Top Ad

মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৮

স্পটলাইটে স্কুল-অভিভাবক সম্পর্ক


নমিতা দাশ সানি

সেবাদাতা আর গ্রহীতা সবখানেই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন যেন। স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে মনে হয় এগুলো স্কুল নয়-'ক্লিনিক', আর শিক্ষকরা ‌‌‘কসাই'। মানে ক্লিনিকগুলো কসাই-জীবিকার তাগিদে এই অভিযোগ অথবা রক্তযোগ দেখে শুনে অসার অনুভূতি। কিন্তু নবম শ্রেণীর ছাত্রী অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার ঘটনার আগে থেকেই চারপাশের মা-বাবারা স্কুল আর শিক্ষকদের নিয়ে এতো বিরূপ মন্তব্য করে আসছেন, এমন কি আমার নিজের স্কুল নিয়েও অনেকের কাছেই খারাপ মন্তব্য শুনি। শুনলে মনে হয়, আমাদের চামড়া বোধ হয় মোটা ছিলো, কিংবা বোকা ছিলাম, মোবাইল ছিলো নানেটের তো তখন জন্মই হয়নি-তাই আমাদের শিক্ষকরা মারলেওবকলেও তাঁদের ভালোবাসতাম। আর শিক্ষকরাও মা-বাবাদের সঙ্গে সবসময় ভালো ব্যবহার করেছেন। বাচ্চার অন্যায়কে বাবা-মা’ অন্যায় মনে করে উদোর পিণ্ডি উনাদের ঘাড়ে চাপাননি। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখে গেছেন, 'যার কাছে দেনা পাওনার সম্বন্ধ, তাকে ভালোবাসা যায় না।' স্কুল আর অভিভাবকদের সম্বন্ধ এখন যেন তাই। কেউ কাউকে সম্মান করেন না। আর বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী, লম্বা বেণীর কিশোরীর সঙ্গে বেণী মাধবের দেখাই হলো না, তার আগেই অনভিপ্রেত আত্মহত্যা করলো সে। 
শিক্ষকরা আদিকাল থেকে এক কথাই বলেন- আজ কালকার বাচ্চারা সাংঘাতিক বিচ্ছু, আমাদের সময়ে আমরা কতো ভালো ছিলাম! এটা সত্যি, বাচ্চা যদি বড়দের মতো আচরণ করে তাহলেই বরং চিন্তার। স্রোত থাকলে সেখানে ময়লা জমে না, স্রোত সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ছাত্ররা সবসময় নতুন দিনের আলো,তাদের মাঝে ভাল খারাপ সব আছে, দিন শেষে যা থাকার তাই থাকবে। অভিভাবকদের সঙ্গে স্কুলের সম্পর্ক আরো মধুর হউক, বাচ্চা-অভিভাবক-শিক্ষক একে অন্যকে ‘টেরোরিস্ট’ ভাবার কালচার থেকে আমাদের মুক্তি হউক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Post Bottom Ad